শহীদ সাবের

প্রাথমিক পরিচয়ঃ

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী হানাদার ও এদেশের দালাল রাজাকার, আলবদর বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পায়নি নিষ্পাপ শিশু, মা, বোন থেকে শুরু করে তাঁতি, চাষি, কামার, কুমার, বুদ্ধিজীবি। কিন্তু তার চেয়েও বর্বর ঘটনা ঘটেছিল একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সাবের এর বেলায়। তাকে পুড়িয়ে মেরেছিল স্বাধীনতা বিরোধী দোসররা। তিনি নিজেও জানতোনা তার কি অপরাধ। সংবাদ অফিসে রাত্রে একটু ঘুমিয়ে থাকা এটায় ছিল তার জীবনে বড় কানা। ১৯৭১ সালে ৩১ মার্চ পাকিস্তানী হানারা সংবাদ অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয় এর ভিতরে ছিল সাবের আগুনে ধাও ধাও করে জলে পুড়ে মারা যায় শহীদ সাবের। শহীদ সাবের ছিল একজন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক। যার কণ্ঠে গর্জে উটেছিল অত্যাচারী শোষণ বিরুধী কথা। তিনি অকালে ঝড়ে পড়েন সাহিত্য থেকে। মাত্র ৪ বছরে মন জয় করে পাঠক সমাজকে।

 

জন্ম ও বংশ পরিচয়ঃ

কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক শহীদ সাবের ১৯৩০ সালে বর্তমান কক্সবাজার জেলার ঈদগাও এলাকায় সোনাপুর গ্রামে নানা বাড়িতে জন্ম গ্রহণ করেন। তার স্কুলের সার্টিফিকেটে নাম ছিল এ,কে, এম শহিদুল্লাহ। পড়ে তিনি সাহিত্য সমাজে শহীদ সাবের নামে পরিচিতি লাভ করেন। তার বাবার নাম সালামতউল্লাহ ও মায়ের নাম শফিকা খাতুন। তার বাবা ছিল একজন সরকারি কর্মকর্তা। সালামতউল্লাহ জীবনে দুটি বিয়ে করেন। শহীদ সাবের ছিল ১ম ঘরের সন্তান। এ ঘরে ২ টি সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন। শহীদ সাবের ও সাইফুল্লাহ। শহীদ সাবের ছিল সাইফুল্লার ৫ বছরের বড়। সাইফুল্লাহ পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করতেন। তার বাবা ২য় বিয়ে করেন নুরন-নাহার নামে এক কন্যাকে। তার ঘরে জন্ম নেয় আরও সাত সন্তান। শহীদ সাবের ও শফিকা খাতুন ঈদগাও এ থাকতেন শহীদ সাবের ও সাইফুল্লাহকে নিয়ে। আর শহীদ সাবের বাবা ২য় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন কলকাতায়।

 

শিক্ষা জীবনঃ

শহীদ সাবেরের নানা বাড়ির সবাই ছিল শিক্ষিত। পড়ালেখার জন্য সবাই তাকে যত্ন নিতেন। তার শিক্ষার হাতেখড়ি হয় তার মায়ের কাছে। তার পর তাকে ঈদগাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করেন। এখানে তিনি ৪র্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়েন। প্রতি ক্লাসে তিনি সাফ্ল্যার স্বাক্ষর রাখেন। তাই তার মা তাকে ভাল স্কুলে ভর্তির চিন্তা করে। তাই তিনি তার বাবার কাছে কলকাতায় পাঠিয়ে দেন। শুরু হল নতুন সংগ্রাম। তার বাবা তাকে ভর্তি করেন কলকাতার নামকরা হেয়ার স্কুলে। সৎ মায়ের কাছে অনেক প্রতিকূলতার মাঝে তাকে পড়তে হত। জামা কাপড় থাকত ময়লা যুক্ত। চেহারায় থাকত অম্লিন ছাপ। মা থাতেও মায়ের অভাব। তবুও তিনি এই পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেন। হেয়ার স্কুলে তিনি ২য় স্থান অর্জন করেন। জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন শিশু সংগঠনের সাথে। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলে শহীদ সাবেরের বাবা সকলকে নিয়ে নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। শহীদ সাবের ভর্তি হলেন চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে। ১৯৪৯ সালে চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন। এরপর তিনি ভর্তি হয় চট্রগ্রাম সরকারি কলেজে। ভর্তির পর তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫০ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে  ছাত্র ফেডারেশনের সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করেন। ফলে এই সময় তার পড়ালেখার চরম ব্যঘাত হয়। ১৯৫০ সালে রাজশাহী জেলা থেকে পরীক্ষা দিয়ে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। ১৯৫৪ সালে দেশের সরকার পরিবর্তন হলে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর তিনি ভর্তি হয় জগ্ননাথ কলেজে বিএ ক্লাসে। ১৯৫৫ সালে তিনি জগ্ননাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। এর পর তিনি আর পড়ালেখা করেনি।

 

রাজনৈতিক ও সাংবাদিক জীবনঃ

শহীদ সাবের স্কুলে পড়ার সময় ছোট দের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। হেয়ার স্কুলে থাকা অবস্থায় জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন শিশু সংগঠনের সাথে। এসময় ছোটদের আসরের লাইব্রেরী ছিল। তিনি এখানে ছোটদের  জিবনি,রাজনিতীর বই পড়তেন। ঐ সময় তিনি ‘ ছন্দশিখা’’ নামে হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশ করেন। এবং তিনি এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। ছন্দশিখার প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।

দেশ বিভাগের পর তিন ভর্তি হলেন চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে তখন তিনি মুকুল ফৌজ নামে একটি সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।১৯৪৯ সালে তিনি ভর্তি হয় চট্রগ্রাম সরকারি কলেজে। ভর্তির পর তিনি কমিউনিস্ট আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং এর কর্মী হয়। তখন কমিউনিস্ট পার্টি যারা করতেন তাদের বিরুধে সরকার কঠিন ভূমিকা পালন করতেন। কোন মিছিল মিটিং সভা করলে তাদের গ্রেফতার করা হত। ১৯৫০ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে  ছাত্র ফেডারেশনের সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করেন। ১ম তাকে রাখা হয় চট্টগ্রাম জেলে। পরে রজশাহী জেলে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ১৯৫৫ সালে তিনি জগ্ননাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করার পর তিনি দৈনিক সংবাদে যোগ দেন। এখানে তিনি সম্পাদকিয় ও সাহিত্যিক পাতায় লিখতেন। ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে চাকরি করেন।

 

পারিবারিক জীবনঃ

শহীদ সাবের ছাত্র জীবনে ছিল পড়ালেখা ,রাজনৈতিক নিয়ে ব্যস্ত ছিল। তার উপর বিনা কারনে ৪ বছর জেল। জেল থেকে বের হয়ে কর্ম ব্যস্ততার কারনে বিয়ের কথা তিনি চিন্তা করতে পারেনি। এছাড়া তিনি বাবা মা উভয় এর কাছে তিনি ছিল অবহেলিত। রাজনীতি করে বলে তার বাবা তাকে পছন্দ করতেন না। চাপের ফলে বি,এ পাশ করার পরই তিনি কর্মে ব্যস্ত। কর্ম, রাজনীতি, সাহিত্য এসব নিয়ে তিনি মানসিক চাপে থাকতেন। এছাড়া মামার বাড়িতে থাকা অবস্থায় তিনি এক মেয়ের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। পরে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায়। এরফলেই মনে হয় বিয়ের প্রতি তার অনীহা হয়ে পড়েন। ১৯৫৮ সালের পর তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

 

চাকরি জীবনঃ

শহীদ সাবের ১৯৫৫ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে বিএ পাশ করার পর তিনি রাজধানী পুরান ঢাকায় ওয়েস্ট এ্যান্ড হাই স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এখানে তিনি বেশী দিন চাকরি করেনি। চাকরি ছেড়ে তিনি দৈনিক পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৫৮ সালে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি এখানে চাকরি করেন। এখানে চাক্রী করা অবস্থায় তিনি পাকিস্তান সরকারের সুপিরিয়র সার্ভিস পরীক্ষা দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু তার চোখের সমস্যার কারনে  পরীক্ষা দেয়নি। এরপর তিনি ফেডারেল ইনফর মেশিন সার্ভিসে পরীক্ষা দেন। এই পরীক্ষায় তিনি সবচেয়ে বেশী মার্কস পান। কিন্তু দুঃখ সাবেরের পিছু ছাড়েনা। একটার পর একটা লেগেই থাকত। তার উপর বিনা কারনে ৪ বছর জেলে থাকতে হয়। এর জন্য তাকে তৎকালীন সরকার তাকে চাকরির জন্য অযোগ্য বলে ঘোষণা করেন। এরপর তিনি শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি যান তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমানের কাছে। পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান তাকে আশ্বাস দেন চাকরী দেয়ার জন্য। কিন্তু এখানে বটে সাধল সামরিক শাসন। ১৯৫৮ সালে ৮ অক্টোবর তৎকালীন পাকিস্তানের সেনা প্রধান আয়ুব খান দেশের সামরিক শাসন জারি করেন। ফলে পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান ক্ষমতা চুত্য হন। পূর্ব বাংলার গণতন্ত্রের পতনের সাথে শহীদ সাবেরের ও স্বপ্নের পতন হয়।

 

সাহিত্যিক জীবনঃ

শহীদ সাবের ছোট কাল থেকেই সাহিত্য অনুরাগী ছিলেন। কলকাতার হেয়ার স্কুলে পড়ার সময় তিনি নিজের হাতে লেখা পত্রিকা বের করেন। এখানে তিনি নিজে নিয়মিত লেখতেন। শহীদ সাবেরের প্রথম লেখা প্রকাশ হয় দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়। এ সময় তিনি হেয়ার স্কুলে অধ্যায়নরত। ১৯৫১ সালে তিনি কারাগারে বন্দি অবস্তায় লিখেন তার বিখ্যাত রচনা ‘ আরেক দুনিয়া থেকে’’ । এটি ছিল তার তার বন্দি জীবনের বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা। এই লেখাটি সে সময় জেল ফাকি দিয়ে চলে যায় কলকাতার নতুন সাহিত্য পত্রিকায়। এই গ্রন্থটি প্রকাশ হয় জামিল হোসেন নামে। সে সময় তার এ রচনাটি ব্যপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ১৯৪৭ সালে চট্রগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে পড়ার সময় তিনি ‘ আবেগ’’ নামে একটি গল্পে সীমান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৫৫ সালে তিনি প্রকাশ করেন ‘ এক টুকরো মেঘ’’ নামে একটি গল্প। এছাড়াও বিষকন্যা,জাসু ভাবীর জন্য, দেয়াল, এক টুকরো মেঘ, ছেলেটা, শেষ সংবাদ, প্রানের চেয়ে প্রিয়, যে গল্প কেউ বলে নি। যৌবন, ও চালচুলো, নামে ১০ টি গল্প নিয়ে রচিত হয় ‘’ এক টুকরো মেঘ’’ ১৯৫৭ সালে তার জেল জীবনে নতুন সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ‘’ রোজনামচা’’ গ্রন্থটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। ১৯৫৮ সালে প্রকাশ করেন ছোটদের জন্য গল্প গ্রন্থ ‘’ ক্ষুদে গোয়েন্দার অভিযান। তিনি একই বছর ‘’ পুশকিনের ইস্কাপনের বিবি, গোগোলের পাগলে ডাইরী ও ক্যাথরিন অয়েন্স পিয়ারের কালো মেয়ের স্বপ্ন, নামে তিনটি অনুবাদ গ্রন্থ রচনা করেন।

প্রকৃতপক্ষে শহীদ সাবেরের সাহিত্য জীবন ছিল মাত্র ৪ বছর। ১৯৫৮ সালে তিনি মানসিক ভারসাম্যহিন হয়ে পড়েন। ফলে তিনি আর কোন গ্রন্থ রচনা করতে পারেনি। তার পরও তিনি কিছু কবিতা লিখেছিলেন যার কোন খবর পাওয়া যায়নি।

 

ভারসাম্যহীন শহীদ সাবেরঃ

শহীদ সাবের সারা জীবনই মানসিক চাপে ছিলেন। মাত্র সাত বছর বয়সে তাকে তার মা কলকাতায় পাটিয়ে দেন তার সৎ মায়ের কাছে। সৎ মা তাকে অন্য চোখে দেখতেন। সৎ মায়ে আচারনে তিনি মানসিক ভাবে অনেক কষ্ট পান। মা থাকতে ও মায়ের আদর স্নেহ থেকে তিনি বঞ্চিত হন। ১৯৫০ সালে জেলে নেয়ার পর তার মা তাকে মুক্তির জন্য অনেক ব্যবস্থা করেন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু এতে তিনি রাজি না হওয়ায় বাবার কাছ থেকেও তিনি স্নেহ বঞ্চিত হয়। জেল থেক বের হওয়ার পর তার বাবা তাকে চাকরির জন্য চাপ তাকে সংসারের অভাবের কথা তাকে বলা হত এতে তিনি আরও মানসিক চাপে পড়েন। এছাড়াও তিনি প্রেমে ব্যর্থ হওয়ার ফলে তিনি নিজেকে অনেক ছোট ভাবতেন। মানসিক ভাবে তিনি আরও ভেঙ্গে পড়েন। সম্ভবত অত্যন্ত মানসিক চাপের কারনে ১৯৫৮ সালের শেষ দিকে মানসিক পরিবর্তন আসতে থাকে। ১৯৫৯ সালের প্রথম দিকে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। এ সময় তার পড়নে ছিন্ন ভিন্ন কাপড় থাকত। এ সময় তিনি প্রচুর সিগারেট খেতেন। সারাদিন ঘুরে ফিরে রাত্রে ফিরতেন সংবাদ অফিসে। এখানে কখনো ফ্লোরে কখনও চেয়ারে আবার কখনও বারান্দায় ঘুমাতেন। কচিকাঁচার মেলার পরিচালক রোকনুজ্জামান খান দোদা ভাই এর চেষ্টায় সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ্য থেকে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর তিনি কিছুটা সুস্থ হলেও চিকিৎসার ধারাবাহিকতার অভাবে তিনি আগের অবস্থায় ফিরে যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্তাতেই ছিলেন।

 

সন্মাননা ও স্বীকৃতিঃ

শহীদ সাবের জীবিত অবস্থায় কোন সন্মাননা পায়নি। তবে তার মৃত্যুর পর ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমী তার সাহিত্য সরূপ ( মরণোত্তর ) সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন।

 

মৃত্যুঃ

১৯৭১ সালের ৩১ শে ডিসেম্বর পাকিস্তানের দোসররা সংবাদ অফিস জ্বালিয়ে দেন। শহীদ সাবের ঐ সময় সংবাদ অফিসে ঘুমাচ্ছিল। সংবাদ অফিস পুড়ে ছায় হয়ে যায় সে সাথে শহীদ সাবের ও পুড়ে ছায় হয়ে যায়। শহীদ সাবেরের নাম তো দূরের কথা তার কোন হাড় গোড় ও খোঁজে পাওয়া যায়নি।